Logo
প্রিন্টের তারিখ: 24 February 2026 | প্রকাশের তারিখ: Feb 24, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ঝিনাইদহে খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

ঝিনাইদহে খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ
ঝিনাইদহে খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে ব্যাবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-ঝিনাইদহ পৌরসভার হাট-বাজার থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও খাজনার নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইজারাদারের বিরুদ্ধে খাজনার নামে চাঁদাবাজি অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নতুন হাটখোলা বাজার ব্যবসায়ীরা।
এ সময় বাজারের মাছের আড়ৎদার বাদশা বুলবুল, আব্দুল করিম মিয়া, কাঁচা মালের আড়ৎদার হুমায়ন কবির কল্লোল ও গোস্ত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানসহ অর্ধশত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার দোহায় দিয়ে এবং ইজারামূল্য অতিরিক্ত নির্ধারণের অজুহাতে ইজারাদার খেয়ালখুশি মতো ইজারা নিচ্ছেন। খাজনা রশিদ ছাড়াও ইজারাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে চাঁদা নিচ্ছে। 
বাদশা মিয়া ও হাফিজুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আগে এক মন কাঁচা মালে চার টাকার খাজনা ছিল। এখন সেই খাজনা মন প্রতি ১৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। চট খাজনা আগে ১৫/২০ টাকা ছিল। এখন দ্বিগুন আদায় করা হচ্ছে। একজন গৃহস্থ চারটি কদু বিক্রি করতে এসে তাকে দিতে হচ্ছে ৫০ টাকা। 
কুরবান আলী ও হাবিবুর রহমান জানান, একটা ছাগল বিক্রি হলে দুই হাজার টাকার খাজনা আদায় করা হচ্ছে। অথচ আগে তাদের এতো টাকার খাজনা দিতে হয়নি। খাজনা আদায়ের রশিদ না দিয়েই জোর করে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।
ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনে হুসিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন যদি খাজনা আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজী বন্ধ না করে তবে হাট বাজার বন্ধ করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ইজারাদার আক্তার হোসেন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে যেমন খাজনা আদায় করা হতো এখনো সেই নিয়মেই খাঁজনা আদায় হচ্ছে। নিয়মের বাইরে কিছু করা হচ্ছে না। জবাইকৃত গরুতে ৭০ টাকা ও ছাগলে ৪০ টাকা খাচনা নেওয়া হচ্ছে। ইজারাদার আরো বলেন, ঝিনাইদহ পৌরসভাকে খাজনার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেবার জন্য একাধিকবার বলা হলেও তারা দিচ্ছে না। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, দ্রুত খাজনার তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা তালিকা দেখে দেখে খাজনা দিতে পারে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কোন সুযোগ নেই। কেউ নিলে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, খাজনার নামে ইজারাদারের লোকজন যদি বেশি টাকা আদায় করে তবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এক টাকাও যাতে বেশি নিতে না পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দ্রুত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি লিখিত অভিযোগ দেন তবে তদন্ত করে হাটের ইজারা বাতিল করা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ সংবাদ ৭১ বিডি
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF